Sunday, May 3, 2020

কোয়ারেন্টিনে ফেলুদা


-   


   -আজ মোট কদিন হলো রে, বল তো?

   চট করে উত্তরটা মাথায় এলো না। ইদানীং বারের হিসেবই ভুলে যাচ্ছি, রোব-সোম-মঙ্গল সব একেবারে এক হয়ে গেছে। আগে প্রতি রোববারের সকালটা শুরু হতো শ্রীনাথের চায়ের সাথে, বাবা এরপর বেরিয়ে যেতেন আড্ডা দিতে। এখন বাবাও সারাদিন বাসায় বন্দি। করোনা ভাইরাস আসার পর থেকে আমি আর ফেলুদাও পারতপক্ষে বাসা থেকে বেরুইনি। ফেলুদার একটাই চাহিদা, দিনে এক প্যাকেট করে চারমিনার- ওটার জন্যও নিজে আর বের হয় না। পাড়ার দোকানী সকালে বাসার সামনে এক প্যাকেট করে রেখে চলে যায়। বাসায় সারাদিন বসা, নতুন কোনো কেস হাতে আসার সম্ভাবনা প্রায় শুন্য। আপাতত চারমিনার পুড়িয়েই ফেলুদার দিন কাটছে বেশি।
 -৪৩ দিন, ফেলুদা।
  উত্তরটা দিতে ক্যালেন্ডারের পাতাটাও একটু ওলটাতে হলো। সেই মার্চ মাসে ঘোষণা এসেছিল লকডাউনের। প্রথমে ভেবেছিলাম, কটা দিন কষ্ট করে পার করতে হবে। ওই মুহূর্তে অবশ্য ফেলুদার হাতে নতুন কোনো কেসও ছিল না। চন্দননগরের স্বামী-স্ত্রী খুনের জটিল মামলার একটা কিনার করে এনেছে মাত্র। সেটা নিয়ে কম দৌড়ঝাপ যায়নি। খুনী বলতে গেলে পুরো ভারতবর্ষ ঘুরিয়েছে ফেলুদাকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গতি হয়েছে কেসটার। পুলিশ কমিশনার অশোকবাবুও বলছিলেন, ‘এবার মশাই কটা দিন বিশ্রাম করুন। আপনার তো আর বাঁধাধরা চাকরি নয়, আমাদের মতো প্রতিদিন ইউনিফর্ম পরে বাইরে যাওয়ার তো বালাই নেই আর।’ তবে ফেলুদা জানত, আবার কোনো জটিল কেস এলে অশোকবাবুর কাছ থেকে একটা কল আসবেই।
  প্রথম কটা দিন দুজনের মন্দ কাটেনি। ফেলুদা এমনিতে নানান রকম ইনডোর গেমস জানে। এখন তো মোবাইল অ্যাপ থেকে ফেসবুকেও গেমসের অভাব নেই। মাও সেদিন এসে বলছিল, ছোটপিসীরা নাকি অনলাইনে লুডো খেলে। ফেলুদা অবশ্য এতদিন পরেও এসব দিক দিয়ে একটু সেকেলে থেকে গেছে। সে বলে, ওসব অনলাইন গেমসে তার পোষায় না খুব একটা। নানান রকম ধাঁধাঁ আর হেয়ালির নিজে বানায়, আর সেসবের মর্মোদ্ধার করার দায়টা আমার ওপরেই আসে। আগে অবশ্য আমি এসব বুঝতাম না খুব একটা। রয়েল বেঙ্গল টাইগার রহস্যের ‘বুড়ো হয় মুড়ো গাছের’ মতো কিছু বুঝে ফেলার তাকত কেবল ফেলুদারই ছিল। এখন অবশ্য আমার মাথাও খুলেছে একটু, লজ্জা লাগলেও স্বীকার করতে দোষ নেই। আর ফেলুদাকে আজকাল হেঁয়ালির সমাধানের চেয়ে আরেকটু বেশি সিরিয়াস কেসের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। সেদিন আফসোস করতে করতে ও বলছিল, ‘বুঝলি তোপসে, এখন আর মাথা খেলানোর মতো কেস খুব একটা পাই না। বাক্স রহস্যতে যেরকম সাদামাটা একটা বাক্স-বদল থেকে অমন গুপ্তধন বেরিয়ে এলো বা ছিন্নমস্তার অভিশাপে একটা ডায়েরি থেকে হেঁয়ালির রহস্যভেদের যে আনন্দ- ওরকম কেস এখন আর পাওয়া যায় না। এখন সবই খুন-জখমের মতো মোটা দাগের মামলা। সেসবে মাথাখেলাতে হয় বটে, কিন্তু পরিশ্রম তাতে যতটা না, তৃপ্তি অতটা নেই।’
  ফেলুদার কথাটা অবশ্য ঠিক। এখন যুগও পালটে গেছে। অপরাধের ধরন বদলেছে অনেকখানি। এই ক্রিকেট খেলাটা ও এতো ভালোবাসে, সেই ক্রিকেটের পাঁক ঘেঁটেই তো ওকে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের একটা তদন্তে জড়িয়ে পড়তে হয়েছিল। একটা দুর্বোধ্য হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বুঝতে না পারায় ফোন এসেছিল অশোকবাবুর মাধ্যমে ওপরমহল থেকে। পরে তো ফেলুদার মাধ্যমে গোটা একটা চাঁই ধরা পড়ল ফিক্সিং-কেলেংকারির। তাতে কয়েকজন জাতীয় ক্রিকেটারও জড়িয়ে পড়ছিল। ফেলুদাই আফসোস করতে করতে বলছিল তখন, ‘ক্রিকেটটা আর ক্রিকেট নেই রে।’
  ক্রিকেট থাকলেও সময়টা পার করা যেত। টিভিতে পুরনো দিনের খেলা কিছু দেখাচ্ছে বটে, কিন্তু শুধু তা দেখে কি আর সময় কাটে? এদিকে কলেজে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে বটে, কিন্তু এরপর তো বাকি সময় পড়ে আছে। বন্ধুদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক করে আর কত সময় কাটে? ইনস্টাগ্রামের মেমোরিতে প্রথম কদিন থ্রোব্যাকথার্সডে হ্যাশট্যাগ দিয়ে গ্যাংটক আর কাঠমান্ডুর ছবিও দিলাম। কিন্তু আপাতত পুরনো ছবি দেওয়ার ইচ্ছাও মরে গেছে। ফেলুদা প্রথম দুই সপ্তাহ বেশ ফুর্তিতেই ছিল। অনেক দিন আলসেমিটা একদম তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছিল। ওর তো সোশ্যাল মিডিয়ায় অত আগ্রহ নেই, টুইতারেই যা একটু ঢুঁ মারে মাঝেসাঝে। সিধু জ্যাঠার কাছ থেকে বেশ কিছু বই আনিয়ে রেখেছে আগেই, আর নিজের কিন্ডলে আরও বিস্তর বই আছে। সেগুলোই পড়ছে ও। আর সময় পেয়ে পুরনো কিছু ভালো ছবি দেখে নিচ্ছে। ওর শুরুর দিকের কেস সোনার কেল্লা নিয়েই সিনেমা করার কথা হচ্ছে, মানিকবাবু নামে এক লোক এসে কথাও বলে গিয়েছিলেন সেদিন। আপাতত ফেলুদা আগাথা ক্রিস্টির মার্ডার অ্যাট ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস দেখছিল। আর সেদিন নেটফ্লিক্সে নতুন ডিটেকটিভ ছবি ‘নাইভস আউট’ দেখতে দেখতে বলছিল, ‘ছবিটার প্লটে যতই ফুটো থাক, ডিরেক্টর নাটাই থেকে সুতো ছেড়েছেন খুব ধীরেসুস্থে।’
   কিন্তু এখন ফেলুদাও খানিকটা অধৈর্য। নতুন কেস কবে আসবে ভরসা নেই। বিরক্ত হয়ে আমাকে কী যেন একটা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, তখনই ফোনটা বেজে উঠল।
  ‘আরে, লালমোহনবাবু যে? দুই দিন তো খবর নেই।’
  ওপাশ থেকে লালমোহনবাবু এমন চেঁচিয়ে কথা বলছিলেন আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলুম।
‘ -আর বলবেন না মশাই, এভাবে তো আর পারা যাচ্ছে না। বাসায় বসে থাকতে থাকতে তো হাঁপিয়ে উঠলুম। এভাবে কি বাস করা যায় নাকি? ভক্তদের সঙ্গে ফেসবুক লাইভ করে-টরে আর কত সময় কাটে? এদিকে বাসায় কথা কইবার মতো কেউ নেই।’
- -কেন, আপনার নতুন উপন্যাসের কাজ এগুচ্ছে না?
--শুরুতে তো তরতর করে লিখে ফেলছিলুম। কিন্তু আমার অভ্যেসটা তো জানেন, কিছুদিন মুক্ত হাওয়ার স্বাদ না পেলে মাথাটা ঠিক খোলে না। আর কিছু না হোক, অন্তত মেমোরিয়ালের দিকে একটা ঢুঁ মারতে পারলেও হতো। এদিকে অবস্থা গতিক দেখে হরিপদকেও ছুটি দিয়ে দিয়েছি। আর আপনি তো জানেন, শিখব শিখব করে গাড়ি চালানোটাও শেখা হয়নি। তো এবারের উপন্যাসটার নামও দিয়েছিলাম মোক্ষম। ‘কারাকোরামে করোনাতংক’- কেমন হয়েছে বলুন তো?
- -নাম তো ভালোই হয়েছে, কিন্তু কারাকোরামে আসলেই করোনা আছে কি না খোঁজ নিয়ে দেখেছেন তো?
- -হ্যাঁ আলবৎ নিয়েছি। এবার একেবারে গুগল সার্চ করে থরো নলেজ নিয়েছি। কিন্তু মশাই সকাল থেকে গলাটা কেমন যেন খুসখুস করছে। এদিকে ফেসবুকে দেখলাম ওপাড়ার ব্রজেন শেয়ার দিয়েছে, সকাল বিকাল থানকুনি পাতা খেলে নাকি করোনা সেরে যায়।
- -ওসবে একদম কান দেবেন না লালমোহনবাবু। আপনাকে তো আগেই বলেছি, ফেসবুকে কোনো কিছু বিশ্বাস করার আগে দুইবার চিন্তা করবেন।
-  -আরে সেটা তো মাথাতেই আছে। কিন্তু বুঝলেন না, এতজন এত কিছু শেয়ার দিচ্ছে। আবার নিচে লিখে দেয়, কালেক্টেড। কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যা সেটা বুঝে ওঠাই তো মুশকিল! তবে যা বলছিলাম, এবারের উপন্যাসের কাহিনটা দারুণ। প্রখর রুদ্রের বিপক্ষে এবার ডাবল ভিলেন। কারাকোরামের ম্যাফিয়া গ্যাং তো আছেই, সঙ্গে অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাস। কেমন হবে বলুন তো?
-  -ভালোই তো মনে হচ্ছে, শুধু তথ্যগুলো গুগল করে ক্রসচেক করে নেবেন। ফেসবুক থেকে দেখে কিছু লিখতে যাবেন না যেন।
-  -ছ্যা ছ্যা মশাই, কী বলছেন এসব! সাহারায় শিহরণের সেই ভুল কি আর করি? একবার করেই যথেষ্ট শিক্ষে হয়ে গেছে। এবার উইকিপিডিয়ার রেফারেন্স ছাড়া এক পাও নড়ছি না।
-  -তাহলে তো ভালোই। কিন্তু আপনার লাইভ কেমন হচ্ছে ভক্তদের সঙ্গে?
-  -তা হচ্ছে মন্দ নয়। ফেসবুকের সব ব্যাপার স্যাপার তো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি এখনো, মাঝে মাঝে ক্যামেরাটা একটু ইয়ে মানে ওই উলটো হয়ে যায় আর কী। তবে হ্যাঁ, রেস্পন্স ভালো। কালও প্রায় ৫০০ জন একসঙ্গে ছিল। তা আপনাকে এত করে বললুম, একদিন আপনিও আসুন। আমার কথা তো শুনলেন না।
    -নাহ, আমার ওসব লাইভ টাইভ পোষাবে না। সবাই যদি চেহারাই চিনে ফেলে তাহলে গোয়েন্দাগিরি গোল্লায় যাবে। আর এত আলাপ করে কী-ই বা বলব এত?
   -এর মধ্যেই শ্রীনাথ এসে এক পেয়ালা চা দিয়ে গেল। হঠাৎ করেই করে বাবা এসে বলল, ‘ফেলু, তোপসে এদিক আয় শিগগির, জরুরি কথা আছে।’
   -ফেলুদা লালমোহনবাবুকে ‘রাখছি’ বলেই ড্রইংরুমে চলে এলো। আমিও ঢুকলাম পিছু পিছু। বাবার গম্ভীর মুখ দেখে আঁচ করতে পারছিলাম, কোনো একটা দুঃসংবাদ আছে।
-   শোনো, একটা খারাপ খবর আছে। তোমাদের সিধু জ্যাঠাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কদিন থেকেই উনার ঘুষঘুষে জ্বর, একটু কাশিও ছিল। আজ একটু আগে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। এই অবস্থায় তো আমাদের যাওয়ারও উপায় নেই, তবে আমি আমার বন্ধু ডাক্তার অনীশকে বলে দিয়েছি, আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।
-   করোনা টেস্ট করা হয়েছে?
-   হ্যাঁ, করা হয়েছে। পজিটিভই আসার কথা, এখন পর্যন্ত লক্ষণ ওরকমই। আমার তো ভেবে অবাক লাগছে, দাদার জ্বর কাউকে জানাননি। এমনিতেই একা মানুষ, তার ওপর এই ঘোর দুঃসময়। ভাগ্য ভালো, প্রতিবেশীরা দায়িত্ববান ছিলেন। নইলে এই সময়ে কেউ কাউকে সাহায্যও করে না! আচ্ছা ঠিক আছে তোমরা যাও এখন। দেখি আমি আরেকটু খোঁজ নিয়ে।
   -নিজের ঘরে এসে ফেলুদা আবারও বিমর্ষ হয়ে গেল। এমনিতে ও ভেঙে পড়ে খুব কম। মৃত্যুকে তো কাছ থেকে কম দেখেনি, কয়েকবার বেঁচে গেছে মরতে মরতে। লালমোহনবাবুর কাঠমান্ডুতে অমন দুর্দশার সময় ছাড়া খুব বেশি চিন্তিতও হয়নি। কিন্তু এবার এমন একটা খবর এলো, যেটার জন্য মানসিকভাবে আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না।
-   তোপসে, সিধু জ্যাঠার সঙ্গে শেষ কবে কথা হয়েছে তোর?
-   বাবার সঙ্গে হয়েছিল বোধ হয় সপ্তাখানেক আগে। আমার সঙ্গে তো এর মধ্যে হয়নি।
-   আমি কয়েক দিন থেকে ভাবছিলাম, একটা ফোন দেব। কিন্তু ভাবতে ভাবতে আর দেওয়াই হলো না। এখন ধকলটা কি সইতে পারবে উনি?
-   আচ্ছা ফেলুদা, করোনার কোনো দাওয়াই কি বের হবে না?
  -প্রশ্নটা করতেই ফেলুদা একটু স্তব্ধ হয়ে গেল। আমরা দুজনেই জানি, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এখনো কোনো অব্যর্থ ঔষধ আবিষ্কার হয়নি। পত্রিকায় দেখেছি, সব দেশই ভ্যাকসিন বানানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ সফল হয়নি সেভাবে। আর হলেও সেটা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হতে হতে আরও বছরখানেকের অনেক বেশি লেগে যাবে। কিন্তু আপাতত সিধুজ্যাঠার কথাই মাথায় আসছে বেশি। দুজনেই ওঁর কাছ থেকে যে স্নেহ-প্রশ্রয় পেয়েছি এক জনমে সেটা ঋণ শোধ করা কঠিন। আর ফেলুদার প্রতি বিশেষ রকমের টান ছিল তার। নিজের সেরকম কেউ নেই, আমাদেরকেই ছেলেদের মতো দেখতেন। ওঁর কিছু একটা হয়ে গেলে... ভাবতেই পারলাম না আমি। ফেলুদার চিন্তিত মুখ বলছিল, ও সে কথাই ভাবছে।
   ফেলুদা খানিক চুপ করে আরেকটা চারমিনার ধরাল। ততক্ষণে বাবা এসে বলে গেছেন, সিধু জ্যাঠার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খবরটা জানার পর ফেলুদা অস্থির হয়ে পায়চারি শুরু করতে লাগল।
-   একজনই এই অবস্থায় একটু আশা দিতে পারেন। তোপসে, আমার মোবাইলটা দে।

  ফেলুদা স্ক্রল করতে করতে বলল, প্রোফেসর শংকুর সাথে বেশ কিছুদিন ধরে আলাপ নেই। শুনেছি, কী একটা গবেষণায় অনেক দিন ধরে ব্যস্ত আছেন। আপাতত দেখি ওর কাছ থেকে কোনো টোটকা পাই কি না।
-   প্রোফেসর শংকু, কেমন আছেন? ফেলু বলছিলাম।

  আমিও শুনতে পাচ্ছিলাম ওপাশের কথা।
-   আরে ফেলু, কী খবর। সবাই ভালো তো?
-   না, প্রোফেসর। সিধু জ্যাঠার কথা তো আপনি জানেন, উনি সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। বেশ অস্থির লাগছে।
-   করোনা সাসপেক্ট করছে নাকি?
-   ওই রকমই মনে হচ্ছে। আপাতত আইসিইউতে আছে, কিন্তু এই বয়সে ধাক্কাটা সামাল দিতে পারবে কি না বলা কঠিন। এখন তো করোনায় কোনো ঔষধেই কাজ হয় না শুনেছি, আপনার কাছে কি কোনো টোটকা আছে? অন্তত একটু কাজে দিলেও হয়।  
-   তোমাকে বলতে বাধা নেই ফেলু, আমি গত বেশ কিছুদিন এটা নিয়েই গবেষণা করছি। তুমি তো আমার মিরাকিউরল বড়ির কথা জান ফেলু, সেটা সারাতে পারে না এমন কিছু নেই। কিন্তু এই করোনায় মিরাকিউরলও ফেল মেরে গেছে। আমি গত দুই মাস ধরে নতুন কিছু আবিষ্কার করা যায় কি না এটা নিয়েই পরীক্ষা করছিলাম।
-   ইতিবাচক কিছু পেয়েছেন?
-   হ্যাঁ, এগিয়েছি বেশ কিছুটা। একটা নমুনাও দাঁড় করিয়েছি। কিন্তু এখনও কারও ওপর প্রয়োগ করা হয়নি বলে বুঝতে পারছি না কেমন কাজে দেবে।
-   সিধু জ্যাঠার ওপর করে দেখতে চান?
-   সেই সিদ্ধান্ত তোমাদের। তবে আমার মনে হয় এই ঔষধে কাজ হবে।
-   আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

  এরপরের গল্প খুব ছোট। সিধু জ্যাঠার ওপর পরীক্ষা করা হলো ঔষধটা, দ্রুত সেরে উঠলেন তিনি। এরপর তো তোলপাড়।  ‘করোনাকিউরল’ বড়ি মানবজাতিকে বাঁচিয়ে দিল আরেকটি মহাবিপদ থেকে, প্রোফেসরকে নিয়ে আরও একবার হইচই। এবার পুরো বিশ্বজুড়েই। এমনিতে ব্যবসায়িক কিছুর জন্য প্রোফেসর শংকু কখনো তার কোনো কোনো আবিষ্কার ব্যবহারের অনুমতি না দিলেও মানবতার খাতিরে তিনি এবার সায় দিলেন। নিজামে মাটন চপ খেয়ে করোনামুক্তির উদযাপন করলাম লালমোহনবাবুসহ আমরা তিন জন। খেতে খেতে লালমোহনবাবু বলছিলেন,
-   বুঝলেন মশাই। এই যে প্রোফেসর শংকু, ভাবছি উনাকে সুপারহিরো বানিয়ে নতুন একটা সিরিজ শুরু করব। ভেবেছ, কীভাবে পুরো বিশ্বকে একা বাঁচিয়ে দিলেন, অ্যাঁ?
-   ভালোই হবে লালমোহনবাবু। শুরুর বইটার নাম আমি দিয়ে দিচ্ছি, ‘গিরিডিতে গণ্ডগোল’।
-    ......



No comments:

অন্ধের স্পর্শের মতো চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ

 সব কবিদের গদ্য সুন্দর হয় না। কেউ কেউ আছেন যাদের দুই হাতে একসঙ্গে বাজে কবিতা আর গদ্যের যুগলবন্দি। শঙ্খ ঘোষের গদ্যই সত্যিকার অর্থে পড়েছিলাম আ...