Saturday, August 31, 2013

হুদাই ১ (জীবনে ফেরা)

১।
দুপাশে সাঁই সাঁই করে গাছেরা সরে যাচ্ছে। মাতাল হাওয়ায় উড়ছে চুল, দুধারে নীল পাহাড়ের হাতছানি। একবার তাকালে আর চোখ সরানো যায় না। সামনেই বাঁক, জোরে হাঁক দিয়ে উঠলাম- মামা, আস্তে...
ড্রাইভার সে কথা শুনলে তো! দারুণ দক্ষতায় গতি খুব একটা না কমিয়েই বাঁক কাটিয়ে যায়। আমি কান গুজে দেই হেডফোনে। চারপাশে বন্ধুদের সোল্লাস চিৎঅকার, গাড়ির টায়ারের কর্কশ শব্দ, বাতাসের হিসহিস ধ্বনি... সবকিছু থেকে চট করে আলাদা হয়ে যাই। ডুব মারি অতল জলের স্পন্দনে।
হোয়ার ওয়ার ইউ, হোয়েন আই ওয়াজ বার্নড অ্যান্ড ব্রোকেন। হোয়াইল দ্য ডে সিজড বাই ফ্রম মাই উইনডো ওয়াচিং...
এটুকু শুনেই চোখ মুদে ফেলি। আহ! কী অসাধারণ একটা গান। স্বর্গে গেলে কী এমন গান শোনা যাবে? 

গান বস্তুটা যথেষ্ট গোলমেলে। কখন কোন গান আপনার ভাল লাগবে সেটা বলা ভারি মুশকিল। হঠাৎ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, বহুদিন পরে পরিচিত একটা গানের কলি শুনে মন হয়ে উঠেছে স্মৃতিমেদুর- এমন অনুভূতি প্রায় সবার কখনো না কখনো হয়েছে সেটা হলফ করেই বলা যায়। সুর তো আমাদের সবার রক্তেই, কারো কারো সেটা বের হয় গলা দিয়ে, আর বাকিদের মনের স্বরতন্ত্রীতে সেটা গুঞ্জরিত হতে থাকে অহর্নিশ।
আমি দ্বিতীয় দলে পড়ি। গানের ব্যাপারে আমি সর্বভূক,কোনো ধরনের গানেই আমার অরুচি নেই। প্রিয় গানের নাম বলতে বললে আমি তাই চট করে কিছু বলতে পারব না। কারণ, একেকটা গান আমার কাছে স্মৃতির প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেওয়ার মতো, কোন গানের সাথে কোনটা জড়িয়ে আছে বলা কঠিন। আমি সময় মনে রাখি সুরকে দিয়ে, স্মৃতি হাতড়াই গানের বাণীতে। সেজন্য প্রিয় গান মানে আমার কাছে নিভৃত স্মৃতিচারণের অনুভূতি।

বলছিলাম পিঙ্ক ফ্লয়েডের কথা। তখনো ক্লাসিক রকের সাথে ওভাবে সখ্য গড়ে ওঠেনি। ফিরিঙ্গি গান বলতে বেশির ভাগ শোনা হত ধাতবসংগীত। তাও বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে। আমার নিজের ধাত সবসময় ধীরলয়ের দিকে। সেটার দৌড় তখনো বাংলাতেই ছিল। ক্লাসিক রকের অসাধারণ জগতটা আমার কাছে থেকে গিয়েছিল অনালোকিত।
ঠিক সেসময় আমার জগতটাকে লন্ডভন্ড করে দিল পিঙ্ক ফ্লয়েড। এক বন্ধুর পরামর্শে শুনলাম কামিং ব্যাক টু লাইফ। প্রথম দেখাতেই প্রেমের অনুভূতি কী সেটা আমি জানি না, কিন্তু প্রথম শোনাতেই প্রেমের অনুভূতিটা আমি ভালোমতই জানি। এই গানটাই আমাকে শিখিয়েছিল সেটা ।

কাকতালীয়ভাবে এই গানটা শোনার পরেরদিনই বেরিয়ে পড়েছিলাম বাক্সপ্যাটরা নিয়ে। গন্তব্য বান্দরবান। যাওয়ার সময় মোবাইলে ভরে নিলাম গানটা। কে জানত সামনের কয়দিন আমাকে বুঁদ হয়ে থাকবে গোলাপী জাদুকরদের মূর্ছনায় ?
সেটাই ছিল বান্দরবানের গহীনে আমার প্রথম সফর। প্রথমবারের মতো পাহাড়কে কাছ থেকে দেখা, তারিয়ে তারিয়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করা। মেঘ চিরে যখন আমাদের চাঁদের গাড়ি বেরিয়ে আসত রৌদ্রালোকিত রাস্তায়, এখনও  মনে আছে তখন “আই ওয়াজ স্টেয়ারিং স্ট্রেইট, ইন্টু দ্যা শাইনিং সান” লাইনটা যেন ভাসিয়ে নিয়ে গেল অন্য এক জগতে।
নাহ, উপমাটা ঠিক ভালো হলো না। আসলে যেভাবে গানটার সঙ্গে স্মৃতির অনুভূতিটা ঠিক লিখে বোঝানো যাবে না। এই গানটা শুনেই মনে হয়েছে, এমন কিছু সৃষ্টি করেই চিরতরের জন্য শান্তিতে চোখ মুদে ফেলা যায়। এমন একটা গানই গিলমোরকে দেবে অমরত্বের স্বাদ।


অন্ধের স্পর্শের মতো চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ

 সব কবিদের গদ্য সুন্দর হয় না। কেউ কেউ আছেন যাদের দুই হাতে একসঙ্গে বাজে কবিতা আর গদ্যের যুগলবন্দি। শঙ্খ ঘোষের গদ্যই সত্যিকার অর্থে পড়েছিলাম আ...