Wednesday, June 8, 2011

আজি হইতে দুটি বৎসর আগে

৯ ই জুন,২০০৭ঃ

সেদিন বেশ টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল। ঘুমটা ভেঙ্গেছিল বেশ আগেই,না না ভুল হলো,ঘুম তো আসলে হয়ইনি।হবে কি করে,পরদিন যে আমি জীবনের চলার পথে আরেকটি মাইলফলক পাড়ি দিতে যাচ্ছি।সারারাত আনন্দ-শিহরণ-কৌতুহলের এক অদ্ভূত মিশেলে কখন যে পার হয়ে গেল,টেরই পেলামনা।যাকগে,চটপট নাস্তা সেরে নেওয়ার পরও ঘড়ি জানান দিল,ক্লাস শুরু হয়ার আরো মেলা দেরি।কিন্তু তর যেন কিছুতেই সইছিলনা।বাইরে তখন বর্ষা আরেকটু সজোরে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল।ভয় হল,এই বুঝি শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি।আর কালক্ষেপন করলামনা।বর্ষাতি সম্বল করে বেরিয়ে পড়লাম লক্ষ্যপানে।কেন জানিনা,রাস্তার ধারের ধূসর প্রকৃতিকেও মনে হচ্ছিল আশ্চর্য সুন্দর।এরই মধ্যে বুয়েট ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছুলাম।এক পরিচিত বলল(তখনকার পরিচিত এখন আমার জিগরি দোস্ত),ক্লাস নাকি ওএবিতে হবে।ওএবিতে প্রবেশ করে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম,এ যে গোলকধাঁধা বই আর কিছু নয়।পথভ্রষ্ট নাবিকের মত বেশ খানিকখন এদিক ওদিক ঢুঁ মেরে অবশেষে ধরা দিল সেই প্রহেলিকাময় ওএবি ২২২ নাম্বার রুম।একসময় স্যার আসলেন,চোখে মুখে এক অদ্ভূত মুগ্ধতা নিয়ে স্যারদের আপ্তবাণী তন্ময় হয়ে গিললাম।এরই মাঝে ক্লাসের সময়ও শেষ হয়ে এল।বাইরে তখন অঝোর বর্ষনের পর আকাশ যেন খানিকটা হাঁপ নিচ্ছে।ফুরসৎ পেয়ে বেরিয়ে এলাম ক্যাম্পাসে।ঘোরলাগা দৃষ্টিতে বুয়েট তখন আমার কাছে এক অপার বিস্ময়।

৯ই জুন,২০০৯ঃ

সেই ঘোরলাগা দৃষ্টির পর্দা একসময় ধীরে ধীরে কেটে গেছে।চোখের নীচে ধীরে ধীরে কালি জমেছে,একসময়ের সেই ইন্দ্রজাল এখন মরীচিকা মাত্র।তারপর একদিন ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ করে আবিষ্কার করলাম,দেখতে দেখতে দুই দুইটি বছর যেন মিলিয়ে গেল।মনে হচ্ছিল,এইতো সেদিন এই ক্যাম্পাসে এসেছিলাম।তবে এখন আর স্যারদের সেই মুখনিঃসৃত বাণী বেদবাক্য মনে হয়না,সেই রোমান্টিসিজম আর নেই,বরং পরীক্ষায় পাশ করার অতি বাস্তববাদী ইচ্ছা থেকে তাদের মহাবাক্যগুলো ক্লাসে বসে গলাধকরণ করতে হয়।ক্লাস টেস্ট ,সেশনাল আর অ্যাসাইন্মেন্টের খপ্পড়ে পড়ে এখন আর কোন কষ্টকেই কষ্ট মনে হয়না,নির্লিপ্ততা আজ আমার আটপৌরে সংগী।মাঝে মাঝে আসলেই জীবনের ওপর বিতৃষ্ণা ধরে যায়।

পাদটীকাঃ

তারপরও ক্যাফেটেরিয়ায় ঘন্টার পর ঘন্টার আড্ডা,ধূমায়িত চায়ের সাথে রাজা-উজির মারা,অঝোর বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে ফুটবল খেলা,ক্লাসের অবসরে ম্যুভির জগতে ডুবে যাওয়া আমাদের নির্বিকারত্বকে ভুলিয়ে দেয়।তাই এই মধ্যরাতে কিবোর্ডে টাইপ করতে করতে ভাবি,আর মাত্রই তো দুটি বছর,এরপর কি ফেলে আসা দিনগুলোরত জন্য মনের আকাশে একটুও কি কালো মেঘ জমবেনা?

অন্ধের স্পর্শের মতো চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ

 সব কবিদের গদ্য সুন্দর হয় না। কেউ কেউ আছেন যাদের দুই হাতে একসঙ্গে বাজে কবিতা আর গদ্যের যুগলবন্দি। শঙ্খ ঘোষের গদ্যই সত্যিকার অর্থে পড়েছিলাম আ...