Thursday, September 2, 2010

প্রতিভা অন্বেষণ ও কিছু গিনিপিগ বানানোর কেচ্ছা

খানিকটা সরলীকরণ হয়ে গেলেও একটি কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়,বলতে গেলে ডেভ হোয়াটমোর নামক ওই পাকানো গোঁফের ভদ্রলোকটিই বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোলনলচে অনেকটুকু বদলে দিয়েছিলেন।তবে পাঁড় ক্রিকেটভক্তরা আশা করি বিস্মৃত হননি,হোয়াটমোরের মস্তিষ্কপ্রসূত কিছু থিওরি কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতাতে পর্যবসিত হয়।হ্যাঁ,আমি তার সুবিখ্যাত "মিডিওকার থিওরির" কথাই বলছিলাম।ব্যাটে বলের লড়াইয়ে সবকিছু মোটামুটি করতে পারে,এমন ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার তার খাপছাড়া নীতি শেষ পর্যন্ত যে কতটুকু সফল হয়েছিল,সেটাও নতুন করে বলবার প্রয়োজন নেই বৈকি।

ভাবছেন, কেন এতদিন পর এসব পুরোনো গপ্পো নতুন করে ফাঁদা।না না ,বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ব্যবচ্ছেদ করা আমার উদ্দেশ্য নয়(সে গুরুদায়িত্ব উৎপলদার হাতেই ছেড়ে দেওয়া ভাল) আর আমি ধান ভানতে শিবের গীতও গাইছিনা।সত্যি বলতে কি,দূরদর্শন বস্তুটার দিকে আজকাল ঘেষা প্রায় হয়না বললেই চলে।কিন্তু কোন কুক্ষনে যে সেদিন টিভি দেখতে বসেছিলাম কে জানে ! এনটিভিতে দেখলাম মার্ক্স অলরাউন্ডার নামে একটি প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান দেখাচ্ছে।বলে রাখা ভাল,এমনিতেই এসব তথাকথিত "তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ" টাইপ অনুষ্ঠানের প্রতি আমার মারাত্মক অ্যালার্জি আছে।প্রতিভা খোঁজার নামে এসব অনুষ্ঠান অনেকটাই ঠক বাছতে গাঁ উজাড় করার মত ব্যাপার বলে মনে হয়।শুরুর দিকের কিছু প্রোগ্রামকে তাও খানিকটা জাতের বলা যায়।কিন্তু পরের দিকের রীতিমত দৃষ্টিকটুভাবে একের পর এক যে হারে তথাকথিত প্রতিভাদের খুঁজে আনা হচ্ছে,তাতে কয়েকদিন বাদে দেশে প্রতিভার মচ্ছব লেগে যাবে আর এসব প্রতিভা রপ্তানি করে বেশ দুপয়সা কামানোও যাবে।সবচেয়ে হাস্যকর লাগে যখন কোমলমতি শিশুদের মর্মান্তিকভাবে এসব নাটুকেপনার শিকার হতে হয়।অনেকটা এরকমই একটি নির্লজ্জ্ প্রদর্শনীই দেখলাম সেদিন।

প্রথমত অলরাউন্ডার কথাটাতেই আমার ঘোরতর আপত্তি।ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যে ব্যাটিং বোলিং দুটিই টুকটাক করতে পারে তাকেও কিন্তু অলরাউন্ডার বলা হয়।মজার ব্যাপার হল,মার্কস অলরাউন্ডার নামের অনুষ্ঠানটি মোটামুটি সেই ক্যাটাগরিতেই পড়ে। কোন একটা বিষয়ে স্পেশালাইজড না হয়ে সব কিছুই একটু একটু পারে এমন শিশুদেরই দেখলাম বেমালুম অলরাউন্ডার বলা হচ্ছে।তবে আমার চক্ষু চড়কগাছ হল বিচারকদের জ্ঞানগম্যির বহর দেখে।বিশেষ করে আট বছরের একটি শিশু যখন চমৎকার আবৃত্তি করে,তখন গান বা নাচ জানেনা বলে তাকে এককথায় ছেঁটে ফেলাটা কেমন বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানসিকতার পরিচয় দেয়, তা আশা করি বলার প্রয়োজন নেই।বিশেষ করে আব্দুন নুর তুষারের মত একজন লোক এধরনের অবিবেচক কাজ কিভাবে করেন ,সেটাই আমি ভেবে পাইনা।আর অন্যদের কথা(বিপাশা হায়াত,শম্পা রেজা ,শিবলী মোহাম্মদ)নাইবা বললাম।কোন প্রতিযোগী যদি কোন বিভাগে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পারফর্ম করে,তাহলে তাকে এমনভাবে তাগাদা দেওয়া হয়,যেন ভাল না করাটা অপরাধ বৈ আর কিছু নয়।সবচেয়ে বড় কথা হল,সবজান্তা যে কোনকিছুতেই ওস্তাদ হয়না সে সত্য তারা কি জাননেনা,নাকি জেনেও না জানার ভান করেন ।তবে আমার মূল আশঙ্কার জায়গা এটা নয়।আরোপিত কোন কিছু কখনোই শুভ ফল বয়ে আনেনা,তা সে যতই উপাদেয় হোক না কেন। আর যে জিনিসে আনন্দ নেই,সে জিনিস যে আখেরে লাভ না করে ফ্যাকড়াই বাঁধায় তা নিয়েও বোধহয় দ্বিমতের অবকাশ নেই।আগে তো তাও এসব প্রতিভা অনুসন্ধান কেবল একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতেই সীমাবদ্ধ ছিল।কিন্তু অলরাউন্ডার খোঁজার নামের যে প্রহসন চলছে,তার চেয়ে আত্মঘাতী আর কিছুই হতে পারেনা।
আর বিচারকেরাও কি একটিবার ভেবে দেখেননি, নিজেদের সন্তানদের গিনিপিগ বানিয়ে তাদের ওপর এহেন বল্গাহীন পরীক্ষা নিরীক্ষা কি আদৌ তাদের জন্য কল্যাণকর হবে ?


আর বলিহারি এইসব অভিভাবকদের,সব কাজের কাজী বানানোর পাঁয়তারায় যারা খুবই যত্নের সাথে নিজ সন্তানদের নিজের অজান্তেই উদ্যমহীন,অন্তঃসারশূন্য করার মত হঠকারী কাজ করতে যাচ্ছেন,সন্তানের পছন্দ অপছন্দের কিছুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে "এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ " নামের একের পর এক জগদ্দল পাথর চাপিয়ে দিচ্ছেন। "আরও প্র্যাকটিস,আরও প্র্যাকটিস" বলে যে মন্ত্র তাদের কানে জপে দেওয়া হচ্ছে,ভয় হয়,শেষে না এই মন্ত্রের রিভার্স অ্যাফেক্টে এসব ইঁদুর কপালে শিশুরা একসময় প্রাণশক্তিহীন যান্ত্রিক মানবে পরিণত হয় !

No comments:

অন্ধের স্পর্শের মতো চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ

 সব কবিদের গদ্য সুন্দর হয় না। কেউ কেউ আছেন যাদের দুই হাতে একসঙ্গে বাজে কবিতা আর গদ্যের যুগলবন্দি। শঙ্খ ঘোষের গদ্যই সত্যিকার অর্থে পড়েছিলাম আ...